শিক্ষার্থীদের মাঝে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগ্রহ দিনে দিনে বাড়ছে। তবে স্কলারশিপ নিয়েই পড়তে হয় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। সবার আগ্রহ থাকে কীভাবে ‘ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ’ ম্যানেজ করা যায়। অনেক দেশই দেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ দেয়। জেনে নেয়া যাক এমন সেরা ১০টি স্কলারশিপ সম্পর্কে

স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্নকারী বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সুইজারল্যান্ড সরকার ‘এক্সিলেন্স স্কলারশিপ’ দেয়। এছাড়া স্নাতক সম্পন্নকারী বিদেশী শিক্ষার্থীকেও এ স্কলারশিপ দেয় সুইস সরকার। কারা এ স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হবেন, তা নির্বাচন করে ফেডারেল কমিশন ফর স্কলারশিপ ফর ফরেন স্টুডেন্টস (এফসিএস)।

বেশকিছু শর্তে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্সিলেন্স স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষার্থীদের অ-ইউরোপীয় দেশের নাগরিক হতে হবে এবং ইংরেজি ভাষাভাষী হতে হবে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০০টির বেশি ইংরেজি শেখাবিষয়ক কোর্স এবং স্নাতক পর্যায়ে ২০টির বেশি ইংরেজি শেখাবিষয়ক কোর্সের জন্য এ স্কলারশিপ দেয়া হয়। স্কলারশিপের অর্থমূল্য ২৫ হাজার ইউরো।

জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের এ স্কলারশিপ দেয়। তবে কেবল উন্নয়নশীল ও শিল্পোন্নত দেশের শিক্ষার্থী এবং যাদের কমপক্ষে দুই বছরের পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তরাই এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কলেজ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ দেয় কানাডা সরকার। এ স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীরা কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলের পোস্ট-সেকেন্ডারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় পড়ালেখা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন। স্কলারশিপ হিসেবে কানাডা সরকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মেয়াদ অনুযায়ী ১০ হাজার ২০০ থেকে ১২ হাজার ৭০০ কানাডীয় ডলার দেবে।

কোরিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ’ নামে একটি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ দেয়। এ স্কলারশিপ শুধু স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। কোরিয়া সরকার বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে এ স্কলারশিপ দেয়া হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘শেভনিং স্কলারশিপ’ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ। অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে ফুল ফান্ডেড এ স্কলারশিপ পাওয়ার। স্কলারশিপটির আওতায় রয়েছে টিউশন ফি, বাসস্থান ভাড়া, উড়োজাহাজ ভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা। তবে এ স্কলারশিপের একটি অন্যতম শর্ত হচ্ছে, শিক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

আইন, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে ‘ইরাসমাস মান্ডুস স্কলারশিপ’ দেয়া হয়। এ স্কলারশিপ দিয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য ১ হাজার ২০০ পাউন্ড দেয়া হয়।

স্নাতক পর্যায়ের বিদেশী শিক্ষার্থী, তরুণ গবেষক, পেশাদার ও শিল্পীদের যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করে। বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামের আওতায় স্কলারশিপ পান। প্রতি বছর চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফুলব্রাইট স্কলারশিপ পান।

তুরস্কের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়ার জন্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ দেয় তুরস্ক সরকার। উচ্চশিক্ষার এ প্রোগ্রামের নাম ‘তুর্কিয়ে স্কলারশিপ’ প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামের আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও

ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘কমনওয়েলথ স্কলারশিপ অ্যান্ড ফেলোশিপ’ প্রোগ্রামকে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো থেকে প্রতি বছর ৭০০ শিক্ষার্থীকে এ স্কলারশিপ দেয়া হয়। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন এ বৃত্তি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে পিএইচডি স্কলারশিপ, মাস্টার্স স্কলারশিপ, ডিসট্যান্স লার্নিং স্কলারশিপ ও মেডিকেল ফেলোশিপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here