
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মিরপুরের পল্লবীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সেকশনের ‘বউবাজার’সহ আশপাশের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখলের কবলে পিষ্ট হচ্ছিল। এতে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি, দীর্ঘ যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা সোহাগের নেতৃত্বে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে এক বিশাল চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যা থেকে তৎকালীন সময়ে হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হতো। ২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও এই দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করা যায়নি এলাকাটিকে। পরবর্তীতে বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার দীর্ঘ সাড় ছয় মাস পর সম্প্রতি এলাকাটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীরা।
তবে এই স্বস্তি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর মতে, এটি স্থায়ী কোনো উচ্ছেদ নয়, বরং চাদার হার বাড়ানোর একটি নতুন কৌশল হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভ্যান ও ফুটপাতের দোকানদার বলেন, “আগে আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের প্রতি ভ্যান থেকে ১০০ টাকা করে চাদা নেওয়া হতো। বিএনপি আসার পর প্রথম কয়েক মাস সেই চাদার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয় ১৫০ টাকা। আর এখন হুট করে ফুটপাত মুক্ত করার কারণ ভিন্ন। আমরা শুনতে পাচ্ছি, কিছুদিন পর আবার বসতে দেওয়া হবে, তবে তখন আর ১৫০ টাকা থাকবে না; ‘দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার’ দোহাই দিয়ে ভ্যান প্রতি চাদার হার ২০০ টাকা করা হবে।”
বর্তমানে সড়ক ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী থাকলেও স্থানীয়দের মনে এখন বড় প্রশ্ন—এই দখলমুক্ত পরিস্থিতি আসলে কত দিন টিকবে? নাকি আবারও নতুন আঙ্গিকে, দ্বিগুণ হারে চাদাবাজির পুরনো খেলা শুরু হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী পদক্ষেপই পারে এই শঙ্কা দূর করতে।














